Skip to main content
<< উত্তর কোরিয়া এর পোস্টে ফিরে যান

উত্তর কোরিয়ার সরকারি ভাষা: কোন ভাষায় কথা বলা হয়?

Preview image for the video "উত্তর কোরিয়ার কোরীয় ভাষা, ব্যাখ্যা".
উত্তর কোরিয়ার কোরীয় ভাষা, ব্যাখ্যা

কোরিয়ান উত্তর কোরিয়ার সরকারি ভাষা এবং জনজীবন, শিক্ষা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহৃত ভাষা। উত্তর কোরিয়ায় একে সাধারণত চোসনমাল বলা হয়, আর পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত রাষ্ট্র-প্রচারিত মানরূপকে মুনহো বলা হয়। কোরিয়ান বর্ণভিত্তিক লিপিতে লেখা হয়, এবং উত্তর কোরিয়ার ভাষানীতিতে হাঙ্গুলভিত্তিক লেখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি মর্যাদা ও দৈনন্দিন ভাষাব্যবহারের পার্থক্য কী, এবং দেশটিতে অন্যান্য ভাষা সম্পর্কে কী বলা যায়—তা এখানে তুলে ধরা হলো।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি ভাষা কী?

উত্তর কোরিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ভাষা একটিই: কোরিয়ান। দেশটির ভাষাগত পরিস্থিতি একাধিক সমমর্যাদার সরকারি ভাষা বা আঞ্চলিক সরকারি ভাষার ব্যবস্থা নয়। রাষ্ট্রের কাজে কোরিয়ান ব্যবহৃত হয়, আর সরকার-প্রচারিত মানরূপ আনুষ্ঠানিক যোগাযোগকে প্রভাবিত করে।

কোরিয়ানই দেশটির সরকারি ভাষা

“উত্তর কোরিয়ায় কোন ভাষায় কথা বলা হয়?”—এর সরাসরি উত্তর হলো: কোরিয়ান দেশটির প্রধান কথ্য ভাষা এবং সরকারি ভাষা। ব্রিটানিকা কোরিয়ানকে উত্তর কোরিয়ার সরকারি ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাষ্ট্রের যোগাযোগ, স্কুলশিক্ষা ও জনসাধারণের উদ্দেশে প্রচারিত গণমাধ্যম বোঝার জন্য এই ভাষাটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

সংবিধানেও রাষ্ট্রের পর্যায়ে ভাষার প্রসঙ্গ রয়েছে। ভাষাসংক্রান্ত বিধানগুলোর মধ্যে ভাষার সুরক্ষা ও বিকাশের বিষয়টি রয়েছে, যা প্রতিফলিত হয়েছে কনস্টিটিউট প্রজেক্টের সংবিধানের পাঠে। এই আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, কেন উত্তর কোরিয়ার ভাষার বিবরণে সাধারণত কেবল কোরিয়ানকেই সরকারি ভাষা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেকে ঠিক একইভাবে কথা বলে। অন্যান্য দেশের মতো এখানেও স্থানভেদে উচ্চারণ, শব্দভান্ডার ও কথার ছন্দে পার্থক্য থাকতে পারে। সরকারি ভাষার পরিচয়টি ভাষার জাতীয় মর্যাদা বোঝায়; এটি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য বা ব্যক্তিভেদে যোগাযোগের বিভিন্ন ধরনকে মুছে দেয় না।

ব্যবহারিক দিক থেকে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা, শিক্ষা ও জনসাধারণের উদ্দেশে যোগাযোগে পাঠকেরা কোরিয়ান ভাষারই দেখা পাবেন। জাতীয় এসব কাজে একটি ভাষা ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিটি লেখায় হুবহু একই শব্দভান্ডার বা ভাষারীতি থাকবে, এমন নয়: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, শিক্ষামূলক উপকরণ ও সাধারণ কথোপকথন—কোরিয়ান ব্যবহারের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট।

সরকারি, জাতীয় ও কার্যকরী ভাষা: পরিভাষাগুলোর অর্থ

এই পরিভাষাগুলো পরস্পর সম্পর্কিত, তবে এগুলো ভিন্ন বিষয় বোঝায়। একটি সরকারি ভাষা সরকার ও জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বীকৃত ভূমিকা পালন করে। একটি জাতীয় ভাষা প্রায়ই কোনো দেশের অভিন্ন পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ভাষা হিসেবে বর্ণিত হয়। একটি কার্যকরী ভাষা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। এই পরিচয়গুলো একে অপরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে, তবে এগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরস্পরবিনিমেয় ধরে নেওয়া যায় না।

উত্তর কোরিয়ায় কোরিয়ানকে সরকারি ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং এটি জাতীয় জনজীবনেরও প্রধান ভাষা। এই ভাষা-পরিচিতির জন্য উপলভ্য সূত্রগুলো আলাদা কোনো কার্যকরী ভাষা বা আঞ্চলিক সরকারি ভাষার উল্লেখ করে না। বিশেষত, বিদেশি ভাষা শেখানো বা অন্য ভাষায় কথা বলা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি—এগুলো নিজেরা সেই ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেয় না।

দেশভিত্তিক ভাষার বিবরণ তুলনা করার সময় এই পার্থক্যটি কাজে লাগে। কোনো দেশে একাধিক সরকারি ভাষা থাকতে পারে, অথবা কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনো ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে। উত্তর কোরিয়াকে সাধারণত এর থেকে ভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়: কোরিয়ান দেশজুড়ে সরকারি ভাষা, আর অন্য ধরনের ভাষাব্যবহারকে আঞ্চলিক কথ্যরীতি, সাংকেতিক ভাষা, সংখ্যালঘুদের ব্যবহার বা বিদেশি ভাষা অধ্যয়ন হিসেবে আলোচনা করা উচিত—প্রমাণ ছাড়া অতিরিক্ত সরকারি ভাষা হিসেবে নয়।

উত্তর কোরিয়ায় কোরিয়ানকে কী বলা হয় এবং কীভাবে লেখা হয়?

উত্তর কোরিয়ার ভাষা-পরিচিতিতে কোরিয়ান ভাষার একটি নাম এবং রাষ্ট্র-প্রচারিত একটি মানরূপ—দুটিই রয়েছে। পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: চোসনমাল ভাষাটিকে বোঝায়, আর মুনহো হলো সরকারি মানরূপের সঙ্গে সম্পর্কিত নাম। কোরিয়ান বর্ণভিত্তিক লিপিতে লেখা হয়; এটি শুধু উত্তর কোরিয়ায় ব্যবহৃত কোনো আলাদা লিখনপদ্ধতি নয়।

চোসনমাল ও মুনহো

চোসনমাল উত্তর কোরিয়ার ব্যবহারে কোরিয়ান ভাষা বা কোরিয়ান কথ্যরীতি বোঝায়। নামটি ভাষাটির জন্য দেশটির নিজস্ব পরিভাষার প্রতিফলন। পাঠকেরা এর ভিন্ন ভিন্ন রোমান হরফে লেখা রূপ দেখতে পারেন, কারণ কোরিয়ান শব্দ ইংরেজি অক্ষরে একাধিকভাবে লেখা যায়।

Preview image for the video "উত্তর কোরিয়ার কোরীয় ভাষা, ব্যাখ্যা".
উত্তর কোরিয়ার কোরীয় ভাষা, ব্যাখ্যা

মুনহো—যার প্রায়ই অনুবাদ করা হয় “পরিশীলিত ভাষা”—উত্তর কোরিয়ায় প্রচারিত মানরূপকে বোঝায়। এটি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আনুষ্ঠানিক কথন ও সরকারি যোগাযোগের আদর্শ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক আলোচনা হুভার ইনস্টিটিউশন উত্তর কোরিয়ার জনপরিসরের কথাবার্তার প্রেক্ষাপটে মুনহো পরীক্ষা করে দেখেছে। তাই শব্দটি কোরিয়ানের একটি সাধারণ নামের চেয়েও বেশি কিছু বোঝায়: এটি একটি নির্দিষ্ট মানরূপ এবং সরকারি জীবনে তার ভূমিকার প্রতি নির্দেশ করে।

তিনটি ধারণাকে আলাদা করে মনে রাখা সহায়ক: কোরিয়ান হলো ভাষা; চোসনমাল উত্তর কোরিয়ায় ভাষাটির একটি প্রচলিত নাম; আর মুনহো হলো রাষ্ট্র-প্রচারিত মানরূপ। এই পার্থক্য একটি সাধারণ ভুল ধারণাও এড়ায়। কোরিয়ানের পাশাপাশি মুনহো দ্বিতীয় কোনো সরকারি ভাষা নয়; এটি দেশটিতে ব্যবহৃত কোরিয়ানের একটি মানরূপ।

প্রচারিত মানরূপটি রাজধানীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পিয়ংইয়ং প্রাসঙ্গিক। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক বাসিন্দার কথার ধরন মানরূপটির সঙ্গে অভিন্ন, কিংবা স্থানীয় রূপগুলো হারিয়ে গেছে। মানরূপ হলো আনুষ্ঠানিক ব্যবহারের একটি আদর্শ, প্রতিটি পরিস্থিতিতে সবার কথার সম্পূর্ণ বিবরণ নয়।

চোসনমাল ও মুনহোর মতো রোমান হরফে লেখা রূপগুলো হলো হাঙ্গুল পড়তে পারেন না এমন পাঠকদের জন্য লাতিন বর্ণমালা ব্যবহার করে কোরিয়ান শব্দ লেখার উপায়। রোমান হরফে লেখার পদ্ধতি ও রীতিনীতি ভিন্ন হওয়ায় বিভিন্ন তথ্যসূত্রে বানানের পার্থক্য থাকতে পারে। ইংরেজি বানানের এই ভিন্নতা থেকে বোঝায় না যে উত্তর কোরিয়ায় ভিন্ন কোনো কথ্য ভাষা ব্যবহৃত হয়।

হাঙ্গুল ও উত্তর কোরিয়ার লিখনপদ্ধতি

উত্তর কোরিয়ায় কোরিয়ান প্রধানত হাঙ্গুলে—কোরিয়ান বর্ণমালায়—লেখা হয়। এই লিপিতে অক্ষরগুলোকে শব্দাংশের ব্লকে সাজিয়ে কোরিয়ান ধ্বনি প্রকাশ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়াতেও কোরিয়ানের জন্য একই বিস্তৃত লিখনপদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যদিও দুই দেশের মধ্যে রীতি, শব্দচয়ন ও বানানের খুঁটিনাটিতে পার্থক্য থাকতে পারে।

Preview image for the video "১ ঘণ্টায় কোরিয়ান পড়তে শিখুন | নতুনদের জন্য হানগুল ব্যাখ্যা 🔤".
১ ঘণ্টায় কোরিয়ান পড়তে শিখুন | নতুনদের জন্য হানগুল ব্যাখ্যা 🔤

উত্তর কোরিয়ার ভাষানীতিতে কোরিয়ান লেখার জন্য নিয়মিত চীনা অক্ষর মেশানোর বদলে হাঙ্গুল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে; চীনা অক্ষরকে প্রায়ই হাঞ্জা বলা হয়। চীন-কোরীয় শিক্ষা ও ভাষানীতি নিয়ে গবেষণায় হাঙ্গুলকেন্দ্রিক পদ্ধতির ওপর জোর এবং সাধারণ ব্যবহারে চীনা অক্ষরের লেখার ভূমিকা কমে আসার কথা বলা হয়েছে। কোরিয়ান সাইটেশন ইনডেক্সের গবেষণা এ থেকেও বোঝা যায় যে চীন-কোরীয় শিক্ষার ইতিহাসে পরিবর্তন ঘটেছে। এ তথ্য একটি সতর্ক পার্থক্য সমর্থন করে: দৈনন্দিন লিখিত কোরিয়ানে হাঙ্গুলের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে চীনা অক্ষর কখনো পড়ানো হয়নি বা বিশেষায়িত শিক্ষায় সেগুলোর কোনো স্থান নেই।

লিখিত উপাদান তুলনা করা পাঠকদের জন্য মূল কথা হলো, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া—দুই দেশেই কোরিয়ান বর্ণমালা ব্যবহৃত হয়। শব্দচয়ন ও রীতিনীতির পার্থক্যে কোনো লেখা দেখতে বা পড়তে আলাদা লাগতে পারে, কিন্তু ভিন্ন বর্ণমালাই প্রধান পার্থক্য নয়। রাজনৈতিক সীমান্ত ভাষার মান ও শব্দভান্ডারকে প্রভাবিত করেছে, অথচ মৌলিক লিখনপদ্ধতি কোরিয়ানই রয়ে গেছে।

হাঙ্গুলের অক্ষরগুলো শব্দাংশের ব্লকে সাজানো হয়, তাই লিপিটি বর্ণভিত্তিক হলেও লিখিত শব্দকে দেখতে আলাদা আলাদা গুচ্ছের মতো মনে হতে পারে। উত্তর কোরিয়ার ভাষা-পরিচিতির ক্ষেত্রে “কোন বর্ণমালা ব্যবহৃত হয়?”—এর উত্তর হলো হাঙ্গুল; সম্পূর্ণ আলাদা কোনো লিপি নয়, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার উপকরণের তুলনায় দেশটির মান্য শব্দভান্ডার ও বানানের রীতিনীতিতেই পাঠকদের পার্থক্য খুঁজতে হবে।

উত্তর কোরিয়ায় কি অন্য ভাষায়ও কথা বলা হয়?

দেশটির ভাষাগত চিত্রে কোরিয়ানের প্রাধান্য রয়েছে, তবে “সরকারি ভাষা” আর “সবাই কেবল এই ভাষাই ব্যবহার করে”—এক কথা নয়। যোগাযোগের অন্যান্য ধরন ও ভাষা শেখার চর্চাও রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর আকার এবং অন্যান্য ভাষার দৈনন্দিন ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণের জন্য তথ্য সীমিত; তাই কোনো নির্দিষ্ট ভাষায় কতজন কথা বলেন—এমন দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

আঞ্চলিক কোরিয়ান কথ্যরীতি ও কোরিয়ান সাংকেতিক ভাষা

উত্তর কোরিয়ায় কথ্য কোরিয়ানের আঞ্চলিক রূপ রয়েছে—বিভিন্ন এলাকা ও সম্প্রদায়ে মানুষের বসবাসের কারণে এমনটি প্রত্যাশিত। এসব রূপে ধ্বনি, স্থানীয় শব্দভান্ডার ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য থাকতে পারে। জাতীয়ভাবে প্রচারিত মানরূপটি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে আঞ্চলিক কথ্যরীতি শুধু আনুষ্ঠানিক মানরূপ থেকে ভিন্ন বলেই আলাদা ভাষা হয়ে যায় না।

Preview image for the video "কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং কোরীয় ও আমেরিকান সাংকেতিক ভাষায় সেগুলো কীভাবে প্রকাশ করবেন | জ্যাজ সাইনস".
কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং কোরীয় ও আমেরিকান সাংকেতিক ভাষায় সেগুলো কীভাবে প্রকাশ করবেন | জ্যাজ সাইনস

কোরিয়ান সাংকেতিক ভাষা এই চিত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বধির সম্প্রদায়গুলোর ব্যবহৃত একটি সাংকেতিক ভাষা, কোরিয়ানের কথ্য উপভাষা নয়। এথনোলগ কোরিয়ান সাংকেতিক ভাষাকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া—উভয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্থানীয় বধির-সম্প্রদায়ের ভাষা হিসেবে বর্ণনা করে, তবে সরাসরি প্রমাণ সীমিত বলেও উল্লেখ করে। অর্থাৎ ভাষাগত পরিমণ্ডলে এর উপস্থিতি স্বীকার করা যুক্তিসংগত, কিন্তু উত্তর কোরিয়ায় কতজন এটি ব্যবহার করেন বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত—এ নিয়ে প্রমাণহীন দাবি করা উচিত নয়।

কথ্য কোরিয়ান ও কোরিয়ান সাংকেতিক ভাষা ভাষার স্বতন্ত্র দুটি রূপ। সাংকেতিক ভাষার নিজস্ব ভাষাগত কাঠামো রয়েছে; এগুলো হাতের নড়াচড়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা কথ্য শব্দমাত্র নয়। তবে দেশভিত্তিক উপলভ্য তথ্যে উত্তর কোরিয়াজুড়ে সাংকেতিক ভাষা কীভাবে শেখানো বা ব্যবহৃত হয়, তার বিস্তারিত বিবরণ নেই; তাই স্থানীয় জীবনে এর ভূমিকা অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়।

ভাষা গণনার সময় এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: সাংকেতিক ভাষাও ভাষা, তবে দেশভিত্তিক বিবরণে সেগুলোকে কথ্য স্থানীয় ভাষা থেকে আলাদাভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হতে পারে। তাই কেবল সরকারি কথ্য ভাষার তালিকা, বধির সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত সব ভাষার তালিকা থেকে ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়।

সংখ্যালঘু ও বিদেশি ভাষা

দেশভিত্তিক তথ্যসূত্রে উত্তর কোরিয়ার জনসংখ্যাকে প্রায় সম্পূর্ণ কোরীয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং উপলভ্য ভাষার তালিকায় কোরিয়ানকে সরকারি ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এথনোলগের দেশভিত্তিক প্রোফাইলে উত্তর কোরিয়ার দুটি জীবিত স্থানীয় ভাষার উল্লেখ আছে, যার মধ্যে কোরিয়ানকে সরকারি ভাষা বলা হয়েছে। এই সংখ্যা সব পরিস্থিতিতে বাসিন্দারা কত ভাষার সংস্পর্শে আসতে পারেন, তা মাপে না; একে ব্যক্তির ভাষাগত দক্ষতার বিস্তারিত গণনা হিসেবেও দেখা উচিত নয়।

কোনো সূত্র ভাষা হিসেবে কী গণনা করে এবং সম্প্রদায়ের ভাষা ও সাংকেতিক ভাষাকে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করে—তার ওপর সংখ্যাটি নির্ভর করে। এথনোলগের সংখ্যাটি দেশভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস, দুটি ভাষা সমানভাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় বা সমান প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পায়—এমন দাবি নয়। উদ্ধৃত দেশভিত্তিক প্রোফাইলে কোরিয়ানই একমাত্র সরকারি ভাষা; অন্যান্য ভাষাভাষী সম্প্রদায় বা তাদের আকারের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপলভ্য তথ্যে নেই।

নির্দিষ্ট পরিবেশে বিদেশি ভাষা শেখানো বা ব্যবহার করা হতে পারে, তবে এর উপস্থিতি থেকে প্রমাণ হয় না যে জনসংখ্যাজুড়ে সেগুলো ব্যাপকভাবে বলা হয়। ইংরেজি, চীনা, রুশ বা অন্য বিদেশি ভাষার বক্তাদের নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ অনুপাত উপলভ্য সূত্রগুলোতে নেই। এসব ভাষার কোনো একটিতে কতজন বাসিন্দা কথোপকথন চালাতে পারেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাবও সূত্রগুলো সমর্থন করে না।

তাই ভাষাশিক্ষা ও বিশেষায়িত ব্যবহারকে দৈনন্দিন সম্প্রদায়গত ভাষাব্যবহার থেকে আলাদা করে দেখাই যথাযথ। কোনো কোর্স, স্কুল বা প্রতিষ্ঠান বিদেশি ভাষা শেখাতে পারে, কিন্তু তাতে সেটি জাতীয় ভাষা হয়ে যায় না, কিংবা ওই পরিবেশের বাইরে ভাষাটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়—এমন প্রমাণও মেলে না। একইভাবে, বিদেশি ভাষার উপকরণ থাকা থেকেই জনসাধারণের ব্যাপক দক্ষতা প্রমাণিত হয় না।

বিদেশি ভাষা ও ভাষাশিক্ষা

বিশেষায়িত শিক্ষায় বিদেশি ভাষার স্থান রয়েছে, তবে এসব কর্মসূচির তথ্যকে সাধারণ ভাষাগত দক্ষতার বিকল্প মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি ভাষার শিক্ষা কোন ভাষা সরকারি বা সবচেয়ে বেশি বলা হয়—সেই প্রশ্ন থেকে আলাদা একটি বিষয়।

বিশেষায়িত অধ্যয়ন আর সরকারি মর্যাদা এক নয়

উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি ভাষা শিক্ষার জন্য নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিয়ংইয়ং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের পরিচিতি বিশেষায়িত কর্মসূচি ও ভাষাশিক্ষার বিবরণ দেয়। সংগঠিতভাবে ভাষা শেখার ব্যবস্থা রয়েছে—এটি বোঝার জন্য এ ধরনের সূত্র উপযোগী, তবে উত্তর কোরিয়ায় কতজন বিদেশি ভাষায় কথা বলেন বা তাদের দক্ষতার মাত্রা কত—তা এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

শিক্ষা বা পেশাগত প্রেক্ষাপটে ইংরেজি, চীনা, রুশ ও অন্যান্য ভাষার ব্যবহার হতে পারে, তবে এই নিবন্ধে ব্যবহৃত সূত্রগুলো দেশজুড়ে বিদেশি ভাষার দক্ষতার কোনো ক্রমতালিকা সমর্থন করে না। নির্দিষ্ট কোনো স্কুলে যে ভাষা শেখানো হয়, তাকে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা বলেও ধরে নেওয়া উচিত নয়। সরকারি মর্যাদা নির্ভর করে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাষাটির ভূমিকার ওপর, শিক্ষার্থীরা সেটি শিখতে পারে কি না—শুধু তার ওপর নয়।

আন্তর্জাতিক পাঠকের জন্য ব্যবহারিক পার্থক্যটি সরল: উত্তর কোরিয়ার জাতীয় জনজীবনের সঙ্গে কোরিয়ান ভাষাকেই যুক্ত করা উচিত, আর বিদেশি ভাষার ব্যবহারকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বোঝা উচিত। সাধারণ জনগণ ইংরেজি—বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষা—সহজেই বুঝবেন, এমন ধারণা করার পক্ষে উপলভ্য প্রমাণ যথেষ্ট নয়।

সংক্ষেপে

উত্তর কোরিয়ার সরকারি ভাষা কোরিয়ান। দেশটিতে একে সাধারণত চোসনমাল বলা হয়, আর পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত রাষ্ট্র-প্রচারিত মানরূপটি মুনহো। কোরিয়ান প্রধানত হাঙ্গুলে লেখা হয়। আঞ্চলিক কথ্যরীতি, কোরিয়ান সাংকেতিক ভাষা ও বিশেষায়িত বিদেশি ভাষাশিক্ষা—সবই বৃহত্তর ভাষাগত চিত্রের অংশ, তবে উপলভ্য সূত্রগুলো অন্য কোনো সরকারি ভাষা বা বিদেশি ভাষাভাষীদের নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠা করে না।

এলাকা নির্বাচন করুন